চৌকাঠ
Publisher: মুহাম্মদ পাবলিশার্স
Language: N/A
Format: Unknown
Pages: N/A
ISBN: N/A
৳196.00
30% OFFIn Stock
একটি পরিবারের দায়শীল অথচ মায়াবী,স্বাধীন কিন্ত সক্রিয়,আটপৌরে তথাপি অসাধারণ একটি স্বচ্ছন্দ কাহিনিকে ঘিরে “চৌকাঠ” উপন্যাসটি আবতির্ত হয়েছে।পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষ কিন্তু তাদের পরিণতি না জেনেই জীবনযাপন করে।খায়দায়,ঘুমোয়,ঘুরে বেড়ায়,সম্পর্ক গড়ে কিন্ত সভ্যতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ হয় খুব কমজনই।একটি পরিবারের কর্তা বা অভিভাবক ভালোবাসা,বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা বা গড়ে ওঠার শেষ আশ্রয়টুকু কিন্তু বাবা-মা বা পিতামাতা।পিতামাতার এতটুকু অবহেলা, অনাদর,অযত্ন,অনুপস্থিতি বা হেঁয়ালিপনা সন্তানকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
'চৌকাঠ' উপন্যাসে লেখক মোর্শেদা হোসেন রুবি এমনই এক উপরিউক্ত আশ্চর্য দার্শনিকীর প্রতিস্থাপন দিয়েছেন একটি পরিবারের ছায়াময় আবরণে।
চৌকাঠ বইটি নিয়ে কোথাও কোন শোরগোল দেখলাম না।লেখিকার অন্যান্য বই নিয়ে মোটামুটি সবাই লেখালেখি করেছে,রিভিউ দিচ্ছেন। কিন্তু আমার চোখে এই বইটি নিয়ে কোন পোস্ট পড়েনি। কিন্তু এই বইটি নিয়ে অনেক কথা বলার ছিলো।আজ আমি এই বইটি নিয়ে কিছু কথা বলব।
অনেক দিন আগে আমি এক পোস্টে আমি লেখিকার ৫টি বইয়ের ছবি দিয়েছিলাম।এবং চ্যালেঞ্জ ছিলো ৫দিনে শেষ করার। তো চতুর্থ দিনে এসে আমি চৌকাঠ বইটি হাতে নিয়ে পড়া শুরু করি।বইটা খুবই ছোট একনাগাড়ে পড়ে শেষ করার মতো।
তো এই ৫টি বই ফিজা,দূর হতে তোমারেই দেখেছি, স্বৈরণী,মেহের, মধ্যে অন্য কোন বই পড়ে আমার মনে হয়েনি একটু বড় হতো, গল্পটা এখানে শেষ না করে আরোও একটু যদি থাকতো।কারণ ওই উপন্যাসগুলো ঠিকঠাকভাবে সমাপ্তি টানা হয়েছে।
শুধুমাত্র চৌকাঠ বাদে।এই বইটি পড়ে আমার আফসোসের শেষ নাই কেন এতো ছোটো করে শেষ করা হলো আরেকটু লম্বা হলে ভালো লাগত।
চৌকাঠ এমন একটা গল্প যেখানে আমাদের সমাজে যে তথাকথিত নারী স্বাধীনতার যে বুলি আউড়ানো হয় তারই বিপক্ষে একটা সুন্দর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই সমাজতান্ত্রিক জীবনে নারীরা নিজেদেরকে স্বাধীন ভাবতে শুরু করে, তারা কারোর বাধাঁ আটকে পড়তে চায়না।কিন্ত আদৌ কি পৃথিবীতে কোন মানুষ সত্যিকারের স্বাধীন?
এই জীবনে আমরা তো কারো না কারোই মুখাপেক্ষী। কিন্ত নারীদের ক্ষেত্রে সেটা বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়।নারী হলে কি বাহিরে যেতে পারবে না কেন?নারীর কাজ কি শুধু সংসার সামলানো।পুরুষ-নারীর অধিকার সমান চাই।এইসব এখন আমাদের স্বাধীনচেতনার বুলি।
কিন্তু আমরা একটা বিষয় খেয়াল করি তাতে পরিষ্কার বুঝা যায়। ইসলাম আমাদেরকে মানে নারীদেরকে যে মর্যাদা দিয়েছে তা আর কোন ধর্ম বা কর্ম দিতে পারে নাই।আর এই সমাজের নারীদেরকে মর্যাদা কতটুকু দিতে পারছে!যেখানে নারীরা তার সর্ব বিলিয়ে দিচ্ছে পুরুষদের সাথে তাল মিলাতে।তাহলে সেই সর্বহারা হওয়া কি স্বাধীনচেতনা.?
বইটিতে এসব দিক অতি দক্ষতার হাতে তুলে ধরেছেন লেখিকা।উনি এই উপন্যাসে দেখিয়ে দিয়েছেন।যেখানে একজন নারী মানবতাকর্মী নিজের সংসারটা ঠিকে রাখতে পারছেন না।সংসার জীবনে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না।স্বামী, সন্তানের জন্য একজন যোগ্য স্ত্রী-মা হতে ব্যর্থ তিনি। অন্যদিকে তিনি বাহিরে প্রতিনিয়ত অন্য মানুষের অধিকার নিয়ে লড়ছেন। এইটা খুবই হাস্যকর ব্যাপার না..!নিজের ঘর ঠিক না রেখে বাহিরের মানুষের ঘর সামাল দিচ্ছেন। হ্যাঁ ঠিক এমন কিছু মানুষ আছে এই সমাজে যারা দিন রাত শুধু অধিকার, অধিকার করে নিজের জীবন বিকিয়ে দেন।প্রকৃতপক্ষে সেই অধিকারটি নিজে অর্জন করতে পারেন না।যারা মানবতাকর্মী সাজে তারা বাহিরে যত ফিটফাট, থাকে না কেন।সংসারে এসে সে হেরে যায়।
এই যে মানুষগুলোকে বাহির থেকে আপনি বুঝতে পারবেন না তার ভিতরে সে কতটা যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে।
সমাজে যে মানুষকে দেখবেন ধনী,উচ্চবিলাসী সে বাস্তবিক জীবনে তত অসহায়,নিঃস্ব।তাই কারোর বাহ্যিক সৌন্দর্য, ধন,বিলাসিতা দেখে আমরা ভাবোনা সেই মানুষটি সুখী।প্রকৃত সুখী হলো সেইসব মানুষ যারা সংসার জীবনের একে অপরের চাওয়া-পাওয়া শ্রদ্ধা করে।একে অপরকে বুঝতে পারে।স্বামী-স্ত্রী যদি যার যার জায়গায় থেকে দায়বদ্ধ তাকে।শুধু নিজের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসলে অপর পক্ষে থেকে কোন স্বার্থ পাওয়ার আশা না থাকলে তখনই একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠে।আর একটা সংসারের মুল ভিত্তি গড়ে তুলেন একজন নারী । আর সেই নারীকে লেখিকা চৌকাঠের সাথে তুলনা করেছেন।আমাদের ঘরে যেমন চৌকাঠ ঘরকে মজবুত রাখে।তেমনি একজন নারী সংসারকে আগলে মজবুত রাখেন।
তিনি তার মমতা, ভালোবাসা,দিয়ে সংসারকে পরিপাটি সুন্দর করে গড়ে তুলেন।তেমনি একজন মেয়ে তেহজিবকে এই উপন্যাস লেখা।এতিম মেয়ে তেহজিব কিভাবে তার ভালোবাসা, বুদ্ধিমত্তা দিয়ে স্বামী, শশুড়- শাশুড়ীকে নিয়ে সুন্দর সুস্থ সংসার গড়ে তুলেছে।
বিঃদ্রঃ লেখিকা মোর্শেদা হোসেন রুবি আপুর কাছে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চাই এই বইটি ২পার্ট নিয়ে আসতে।খুব ইচ্ছা করছে তেহজিব ইয়াশার সংসার জীবনটা আরো কাছ থেকে দেখতে।কিভাবে ওরা একেওপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে।কিভাবে তেহজিব ইয়াশার বিবাহিত জীবন পার করছে বিস্তারিত জানতে খুব ইচ্ছা হয়।এই বই পড়ে শেষ করে মনে হয়েছে উফফ এতো জলদি শেষ হয়ে গেলো কেন।
No reviews yet. Be the first to review this book!