রংমহল
By আফিফা পারভীন
Publisher: ছাপাখানা প্রকাশনী
Language: N/A
Format: Unknown
Pages: N/A
ISBN: N/A
৳840.00
30% OFFIn Stock
মানবজীবন বিভিন্ন রঙের সমষ্টি। ঠিক তেমনি হরেক রঙের মতো রঙিন বই "রংমহল"; যে রংমহলের সাথে জড়িয়ে আছে কিছু মানুষের রং-বেরঙের নানা ঘটনা। লেখক আফিফা পারভীনের বই পড়লে লেখাগুলো ভীষণ অনুভব করি। কাহিনীগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠে। সুনামগঞ্জের প্রকৃতি সৌন্দর্য্য না দেখেও তা অনুভব করেছি। বার বার মনে হয়, দিরাইয়ের হাওরে ছুটে যাই। বইটিতে যেমন সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের বর্ণনা রয়েছে ঠিক তেমনি আছে নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্য।সুনামগঞ্জের এই চমৎকার প্রকৃতিতে লুকিয়ে আছে রংমহলের নানা ঘটনা। রংমহলে একাধারে ফুটে উঠেছে প্রেম-অপ্রেম, ভালোবাসা, হিংসা-বিদ্বেষ, সুখ-দুঃখ, পাওয়া-না পাওয়া সহ নানা রহস্যময় ঘটনা। রংমহল ধারণ করেছে এক নিকৃষ্ট অতীত, যা কিছু মানুষের জীবনকে এলোমেলো করে দেয়। রংমহল পড়ে কখনো কেঁদেছি, কখনো না হেসেছি। বইয়ের কিছু কিছু কাহিনী সাদামাটা হলেও লেখকের লিখনশৈলী থেকে শুরু করে চরিত্র বিশ্লেষণ সব কিছু চমৎকার। শেহজাদের রংমহল যেমন রঙিন ঠিক তেমনি রঙিন তার আ*গুন ফুল। শেহজাদের প্রেম, ভালোবাসা সবই ভীষণ মনোমুগ্ধকর। বইটি পড়ে সুখ সুখ অনুভূতিতে ডুবে ছিলাম। ভালোবেসেছি শেহজাদের মতো রংমহলকে। ৪৮৮ পৃষ্ঠার এই বইটি, যত পড়বেন তত ভালো লাগছে। একঘেয়েমি লাগবে না। অল্প একটু পড়লে পুরো বই না পড়ে শান্তি পাবেন না। বইটি বড় হওয়ায় অল্প কিছু টাইপি মিস্টেক চোখে পড়েছে। কয়েকটা শব্দে বাড়তি (কার) যোগ হয়েছে। ১৯৬ পৃষ্ঠায় একটা জায়গায় মধুমিতা আর রামিসা আছে, ওখানে মধুমিতা আর জোছনা* হবে।
বইটিতে আমাদের সবার জন্য কিছু মেসেজ রয়েছে, যা আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।রংমহল বইয়ের সাথে সবারই রঙিন সময় কাটবে আশা করি।
★প্রিয় চরিত্র: রংমহল বইয়ের বেশিরভাগ চরিত্র আমার ভালো লেগেছে। বিশাল এই উপন্যাসের প্রয়োজনের তাগিদে নানা চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটেছে। প্রতিটি চরিত্রে রয়েছে নানা গল্প। রংমহলের কেন্দ্রীয় চরিত্র শেহজাদ আর মধুমিতা। তাদের ছাড়া এই "রংমহল" অসম্পূর্ণ।
শেহজাদ: এই মানুষটা তার পরিবারের ঢাল। নিজের চিন্তা না করে, পরিবারের প্রতিটি সদস্যের হাসি-খুশির চিন্তায় সে মগ্ন থাকে। শেহজাদ নিঃসন্দেহে সেরা সন্তান, সেরা ভাই, সেরা স্বামী কিংবা সেরা বাবা। যার মতো একজন মানুষ প্রতিটি নারীর স্বপ্নের পুরুষ হয়; কিন্তু তার হৃদয় জুড়ে রয়েছে একজন নারীর জন্য অগাধ ভালোবাসা, সম্মান। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই চরিত্রটি তার জায়গায় স্থির থেকেছে। গাম্ভীর্য ধরে রেখেও সকলের মনে নিজের জন্য জায়গা করে নিয়েছে। এই চরিত্রের তুলনা হয় না।
মধুমিতা: মাম্মির হানি থেকে সে জমিদার গিন্নি হওয়ার গল্পটা অন্যরকম। একসময় শেহজাদের মতোই পরিবারের ঢাল হয়েছে। প্রথম প্রথম মাম্মির হানির কিছু বিষয় ন্যাকামি মনে হবে, কিন্তু জমিদার গিন্নি হিসেবে সেই অসাধারণ। হুট করে মধুমিতার কিছু সাহসী পদক্ষেপ ভীষণ সুন্দর ছিল।
হামিদা খানম: মায়ের ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। জন্ম না দিলেও ভালো একজন মা হওয়ায় যায়। যার জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে রংমহল আর তার মানুষদের ঘিরে। তার সমস্ত অপ্রাপ্তিগুলো মুছে যায় পুত্রের মুখ দেখে। জমিদার গিন্নি কিংবা মা হওয়া এই চরিত্রটি অন্যরকম সুন্দর।
শাহাদাত আর জোছনা: প্রথম প্রথম এই দুইজনের কিছু আচার-আচরণ বাচ্চা সুলভ মনে হলেও এরা রংমহলকে ভীষণ ভালোবাসে। আস্তে আস্তে এই দুইটা চরিত্র সুন্দরভাবে উন্মোচিত হয়েছে। এই দুই চরিত্রকে পড়ে ভীষণ হেসেছি। শাহাদাতের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ একটু অন্যরকম। প্রথম ভেবেছিলাম জোছনা ভালো হবে না, কিন্তু আস্তে আস্তে এই চরিত্রটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। পরিবারকে ভালোবেসে আগলে রেখেছে।
কল্লোল: এই উপন্যাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া চরিত্র। মানুষের জীবনে একজন বিশস্ত বন্ধু খুবই প্রয়োজন। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেও এই চরিত্রটি অনন্য।
এছাড়াও রমিজ উদ্দিন, জান্নাত, তাসরিফ বাদল, আনন্দী সহ আরও বেশ কয়েকটা চরিত্র বেশ ভালো লেগেছে।
★কেন বইটা পড়বেন: বর্তমান সময়ে আমি যাদের রোমান্টিক কিংবা সমকালীন জনরার লেখা পড়ি তাদের মধ্যে সবচেয়ে শালীন, মার্জিত, মনোমুগ্ধকর আফিফা পারভীনের লেখাকেই মনে হয়৷ তার লেখা একবার পড়লে বার বার পড়তে ইচ্ছে করে। প্রতিটি উপন্যাসের কাহিনী, চরিত্র মন ছুঁয়ে যায়। রংমহল বইতে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের এক প্রাচীন জনপদ সুনামগঞ্জের আখ্যান। যা ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের দিক থেকে অনন্য। রংমহলের পাতায় পাতায় লেখা আছে, এইসব জানা-অজানা নানা গল্প। এইসব আমাদের দেশের ঐতিহ্য; যা সকলেই জানা দরকার।
একটি পরিবার মানে আস্ত একটা ভালোবাসা। একটি পরিবারে হরেকরকমের মানুষ থাকে। তবুও তাদের সবাইকে ভালোবেসে একসাথে চলতে হয়৷ রংমহলের ভালোবাসাময় কিছু সম্পর্ক সত্যিই অসাধারণ। রক্তের সম্পর্ক না থেকেও কিছু মানুষের ভালোবাসা অনন্য।
প্রতিটি বাবা-মায়ের উচিত তার সন্তানকে যথেষ্ট সময় দেওয়া। তাকে সুশাসনের মাধ্যমে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। বাবা-মা শাসনের অভাবে কিংবা তাদের অনাগ্রহের কারণে সন্তানরা বিপথে ধাবিত হয়। প্রতিটি মানুষের জীবনে একজন ভালো অভিভাবক প্রয়োজন।
বইতে কিছু কিছু শিক্ষনীয় বার্তা রয়েছে।
একজন মানুষ কোথায় জন্মগ্রহণ করেছে কিংবা কোন পরিবেশে বড় হয়েছে সেটা মুখ্য নয়। মানুষ তার কাজ-কর্মের মাধ্যমেই সবার ভালোবাসা পায়। এই জন্যই বলা হয়,
"জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভালো।"
No reviews yet. Be the first to review this book!